
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | Katha24.com
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei নিহত হওয়ার ঘটনায় তেহরান এটিকে রাষ্ট্রের অস্তিত্বের প্রশ্ন হিসেবে দেখছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট Masoud Pezeshkian একে “বৈধ প্রতিশোধ” হিসেবে অভিহিত করেছেন। প্রশ্ন উঠেছে— ইরান কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে? তাদের হাতে কী ধরনের সামরিক শক্তি রয়েছে?
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় ও বৈচিত্র্যময় ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার এখন ইরানের হাতে। আধুনিক বিমানবাহিনীর ঘাটতি পুষিয়ে নিতে দেশটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রে বিনিয়োগ করেছে।
Shahab-3, Emad, Ghadr-1, Khorramshahr, Sejjil, Kheibar Shekan ও Haj Qassem— এসব ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে সরাসরি আঘাতের আওতায় আনে।
বিশেষ করে Sejjil কঠিন জ্বালানি ব্যবহার করে, ফলে দ্রুত উৎক্ষেপণ সম্ভব— যা যুদ্ধাবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা।
ইরানের কিছু ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ২,৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বলে দাবি করা হয়। এর ফলে ইসরায়েলসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।
তবে এসব ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে পৌঁছাতে সক্ষম নয় বলে সামরিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন।
Soumar, Ya-Ali, Quds সিরিজ, Hoveyzeh, Paveh ও Ra’ad ধরনের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভূমির কাছাকাছি দিয়ে উড়ে রাডার এড়িয়ে আঘাত হানতে পারে।
বন্দর, তেল স্থাপনা, সামরিক ঘাঁটি ও নৌযান এসব অস্ত্রের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু।
ইরান একমুখী (one-way attack) ড্রোনে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটিয়েছে।
ড্রোনের সুবিধা:
কম খরচ
একসঙ্গে বহু ড্রোন নিক্ষেপ
দীর্ঘ সময় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যস্ত রাখা
যদি সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়, তবে ড্রোন হামলা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরান বহু বছর ধরে ভূগর্ভস্থ টানেল, গোপন ঘাঁটি ও সুরক্ষিত সংরক্ষণাগার তৈরি করেছে।
এর ফলে বড় ধরনের হামলার পরও সম্পূর্ণভাবে ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি ধ্বংস করা কঠিন বলে সামরিক বিশ্লেষকদের মত।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট Strait of Hormuz দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়।
ইরান চাইলে অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র, নৌ-মাইন, ড্রোন ও দ্রুতগামী নৌযানের মাধ্যমে এই পথকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে।
পূর্ণ অবরোধ না করলেও, সামান্য উত্তেজনাই বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে যথেষ্ট।
ইরান “Fattah” নামের যে ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করেছে, সেটিকে হাইপারসনিক বলে দাবি করা হয়। তবে এর পূর্ণ সক্ষমতা নিয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য সীমিত।
উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা যেমন বাড়ছে, তেমনি সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর সংখ্যাও বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এখন মূল প্রশ্ন— এই সংঘাত কি সীমিত পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই থাকবে, নাকি তা দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেবে?
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রতিটি হামলা ও পাল্টা হামলা শুধু সামরিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও কূটনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।