প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০২৬ ১০:০৯ এএম
          --- ১ মাস আগে
Ad

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধ: ইরানের অস্ত্রভাণ্ডারের শক্তি কতটা?

অ- অ+
ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধ: ইরানের অস্ত্রভাণ্ডারের শক্তি কতটা?
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন চেহারা নিয়েছে। তেহরান এই ঘটনার পর রাষ্ট্রের অস্তিত্বের সংকটের কথা বলছে, এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এটিকে “বৈধ প্রতিশোধ” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এখন প্রশ্ন উঠেছে, ইরান কিভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে এবং তাদের কাছে কী ধরনের সামরিক শক্তি রয়েছে?
Ad

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | Katha24.com



ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei নিহত হওয়ার ঘটনায় তেহরান এটিকে রাষ্ট্রের অস্তিত্বের প্রশ্ন হিসেবে দেখছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট Masoud Pezeshkian একে “বৈধ প্রতিশোধ” হিসেবে অভিহিত করেছেন। প্রশ্ন উঠেছে— ইরান কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে? তাদের হাতে কী ধরনের সামরিক শক্তি রয়েছে?


ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি: ইরানের প্রধান ভরসা

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় ও বৈচিত্র্যময় ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার এখন ইরানের হাতে। আধুনিক বিমানবাহিনীর ঘাটতি পুষিয়ে নিতে দেশটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রে বিনিয়োগ করেছে।

স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (১৫০–৮০০ কিমি)

Fateh সিরিজ, Zolfaghar, Qiam-1 এবং Shahab-1 ও 2–এর মতো ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নিকটবর্তী মার্কিন ঘাঁটি ও আঞ্চলিক সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে তৈরি।
একসঙ্গে বহু ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের কৌশল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়।


মধ্যম-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (১,৫০০–২,০০০ কিমি)

Shahab-3, Emad, Ghadr-1, Khorramshahr, Sejjil, Kheibar Shekan ও Haj Qassem— এসব ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে সরাসরি আঘাতের আওতায় আনে।

বিশেষ করে Sejjil কঠিন জ্বালানি ব্যবহার করে, ফলে দ্রুত উৎক্ষেপণ সম্ভব— যা যুদ্ধাবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা।


দীর্ঘ-পাল্লার ক্ষমতা

ইরানের কিছু ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ২,৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বলে দাবি করা হয়। এর ফলে ইসরায়েলসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।

তবে এসব ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে পৌঁছাতে সক্ষম নয় বলে সামরিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন।


ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র: নিচু দিয়ে উড়ে আসা হুমকি

Soumar, Ya-Ali, Quds সিরিজ, Hoveyzeh, Paveh ও Ra’ad ধরনের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভূমির কাছাকাছি দিয়ে উড়ে রাডার এড়িয়ে আঘাত হানতে পারে।

বন্দর, তেল স্থাপনা, সামরিক ঘাঁটি ও নৌযান এসব অস্ত্রের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু।


ড্রোন যুদ্ধ: কম খরচে বড় চাপ

ইরান একমুখী (one-way attack) ড্রোনে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটিয়েছে।

ড্রোনের সুবিধা:

  • কম খরচ

  • একসঙ্গে বহু ড্রোন নিক্ষেপ

  • দীর্ঘ সময় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যস্ত রাখা

যদি সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়, তবে ড্রোন হামলা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


ভূগর্ভস্থ ‘মিসাইল সিটি’

ইরান বহু বছর ধরে ভূগর্ভস্থ টানেল, গোপন ঘাঁটি ও সুরক্ষিত সংরক্ষণাগার তৈরি করেছে।

এর ফলে বড় ধরনের হামলার পরও সম্পূর্ণভাবে ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি ধ্বংস করা কঠিন বলে সামরিক বিশ্লেষকদের মত।


হরমুজ প্রণালী: অর্থনীতিতে চাপের কৌশল

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট Strait of Hormuz দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়।

ইরান চাইলে অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র, নৌ-মাইন, ড্রোন ও দ্রুতগামী নৌযানের মাধ্যমে এই পথকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে।

পূর্ণ অবরোধ না করলেও, সামান্য উত্তেজনাই বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে যথেষ্ট।


হাইপারসনিক দাবি

ইরান “Fattah” নামের যে ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করেছে, সেটিকে হাইপারসনিক বলে দাবি করা হয়। তবে এর পূর্ণ সক্ষমতা নিয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য সীমিত।


সামনে কী?

উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা যেমন বাড়ছে, তেমনি সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর সংখ্যাও বাড়ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এখন মূল প্রশ্ন— এই সংঘাত কি সীমিত পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই থাকবে, নাকি তা দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেবে?

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রতিটি হামলা ও পাল্টা হামলা শুধু সামরিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও কূটনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)

এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সিংড়ায় হাম-রুবেলা টিকাদান শুরু

মনোনয়ন বঞ্চিত পাপিয়া: ‘কাফনের কাপড়’ পরে মাঠে নামার হুমকি, শেষ পর্যন্ত কী ঘটবে?

মাদারীপুরে ৩ লাখ টাকা নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারী গায়েব: ২০ শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষার ভবিষ্যৎ অন্ধকারে

হেলেন জেরিন খানকে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের চূড়ান্ত মনোনয়ন প্রদান

হিমালয়ের চূড়ায় বাংলাদেশের গৌরব: ১৬০ কিমি দৌড়ে ইতিহাস সৃষ্টি করলেন তিন সাহসী দৌড়বিদ

আড়ালের নায়ক’ রুবেলের বিদায়: মিরপুরে আবেগী সমাপন

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে মূল্যস্ফীতি নতুন চাপে বিপর্যস্ত সাধারণ মানুষের জীবন

কৃষি ও সামাজিক উন্নয়নে ব্র্যাকের ৫৩ কোটি টাকার বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির ৩৬ প্রার্থীর নাম ঘোষণা: তালিকায় নিপুন রায় ও তুলি

পটিয়ায় জমি বিরোধে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

১০

লুইজিয়ানায় মর্মান্তিক বন্দুকযুদ্ধ: নিজ সন্তানদের ওপর বাবার গুলিবর্ষণ, ৮ শিশুর মৃত্যু

১১

বগুড়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: সিটি করপোরেশন উদ্বোধন ও জনসভায় ভাষণ

১২

মানবিক সহায়তায় অসহায়দের পাশে দাঁড়ালো - রেড ক্রিসেন্ট

১৩

হরমুজ প্রণালীতে চরম উত্তেজনা: সর্বোচ্চ সতর্কতায় ব্রিটিশ নৌবাহিনী

১৪

প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফর: নিজ জেলা বগুড়ায় তারেক রহমান

১৫

দুই দশক পর হাবিপ্রবি: দেশ-বিদেশে শিক্ষার্থীদের সাফল্যের নতুন অধ্যায়

১৬

রাজশাহীতে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ: বাংলাদেশের নারীদের শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দীর্ঘ প্রতীক্ষার সমাপ্তি

১৭

এস আলমকে গ্রেপ্তার ও পাচার করা অর্থ ফেরতের দাবি ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের

১৮

তারাকান্দায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব: পাল্টাপাল্টি মিছিলের মধ্যে ১৪৪ ধারা কার্যকর, সংঘর্ষের আশঙ্কা

১৯

স্ট্যামফোর্ডকে হারিয়ে ছায়া সংসদ বিতর্কে চ্যাম্পিয়ন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়

২০
Ad
Ad
Katha Expert